মাসজিদ আল-হারম এলাকার কবুতর বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী : কথাটি সত্য নয়

মাসজিদ আল-হারম এলাকার কবুতর বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী : কথাটি সত্য নয়

আমরা যখন হেরেম শরীফের আশপাশে ঘোরাফেরা করেছি, নামায আদায় করেছি, কেনাকাটা করেছি তখন কাবা শরীফের জাস্ট বাইরের যে চত্বর সেখানে দেখেছি অসংখ্য কবুতর ঘোরাফেরা করে। কবুতর গুলোকে মুসল্লীরা গম এবং অন্যন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার দিয়ে থাকে। কবুতরগুলি সে খাবার খায় এবং এখানেই ম্যাক্সিমাম সময় অবস্থান করে।

beautiful pigeon in makkah saudi arabia 2019

শুধুমাত্র কবুতরের নিরাপত্তা এবং ভালোভাবে থাকার জন্য সেখানে কিছু স্পেশাল টাইপের তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এগুলো মসজিদ আল-হারম এর বাহিরেই অবস্থিত। আবার প্রধান গেটের বাইরে চত্তরে যেখানে ৫ ওয়াক্ত জামাতে মুসল্লী ও হাজী সাহেবরা নামায আদায় করে সেই জায়গাগুলিতে এই অসংখ্য কবুতর দেখা যায়।

peace pigeons near masjid ul haram makkah

তবে এই কবুতরগুলি কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের জনশ্রুতি আছে যেমন কেউ মনে করেন যে, এই কবুতর বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। কবুতরের ফেলে দেয়া খাবার খেলে বিভিন্ন রোগ ভালো হয়, বিভিন্ন নিয়তে খেলে বা সেটা ব্যবহার করলে তার আশা পূরণ হয়।

pigeons in makkah,
makkar kobutor

কেউ বলেন যে মক্কার এই কবুতরের খাবার খেলে সন্তান হয়। আসলে এই বিষয়গুলি সবই গুজব এবং অসত্য কথা। তবে এটা ঠিক যে, মক্কার যে হারাম এরিয়া এই এরিয়ার মধ্যে কোন ধরনের জীবজন্তু হত্যা করা হয় না বিধায় এখানে এই কবুতর গুলি কে হত্যা করা হয় না বরং তাদেরকে পরম যত্নে রাখা হয় এবং খাদ্য খাবার দেওয়া হয়।

Masjid Al-haram

 আরো একটা জনশ্রুতি আছে যে মক্কার কাবা শরীফের উপর দিয়ে কখনো কোন প্রাণী উড়ে যায় না, বা বিমান চলে না আসলে এগুলো সবই কল্পকাহিনী বা গুজব।

pigeon field in makkah

 বিমান চলার একটা নির্দিষ্ট রুট থাকে বিধায় ওই নির্দিষ্ট রুটের বাহিরে বিমান চলাচল করতে পারে না। সুতরাং সৌদি কর্তৃপক্ষ যেহেতু কাবার উপর দিয়ে চলার মত বিমানের কোন রুট রাখে নাই, তাই বিমান চলে না। কিন্তু আমি নিজে সেখানে অবস্থান করার সময় লক্ষ্য করেছি এবং ভালভাবে লক্ষ্য করেছি যে কবুতর ও অন্যান্য পাখি ছাড়াও প্রজাপতি কাবা শরীফ এর উপর দিয়ে উড়ে যায়। এমনও দেখেছি যে কাবার গিলাফের উপর ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের প্রজাপতি পোকামাকড় এখানে এসে পড়ে এবং সেখানে এই প্রজাপতি এবং পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য সবসময়ই পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত থাকে।

কাবা শরীফের উপর দিয়ে কি পাখি উড়ে

 তারা এই ছোট বড় প্রাণী গুলি করে হত্যা করে না জাস্ট একটা কিছু দিয়ে ওখান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যাহোক, মক্কার কবুতর সম্বন্ধে আলোচনা যাই থাকুক না কেনএই কবুতরের বিশেষ কোনো ক্ষমতা নেই। এটার উচ্ছিষ্ট খাবার খেলে বা ব্যবহার করলে আপনি উপকৃত হবেন, কোন রোগ সেরে যাবে, নিয়ত পূরণ হবে এসব  কথা সত্য না।

 তবে মক্কা, মদিনা তথা সৌদি আরব একটি শুষ্ক আবহাওয়ার পরিচ্ছন্ন দেশ যেখানে অসংখ্য কবুতর দেখা যায়। সৌদি আরবের যেসব জায়গাতে আমি গিয়েছি, হেরা পর্বত সহ অন্যান্য স্থানে গিয়েছি সব জায়গাতেই অসংখ্য কবুতর আমি দেখেছি।

ময়নামতি জাদুঘর কোটবাড়ি কুমিল্লা ভ্রমণ

ময়নামতি জাদুঘর কোটবাড়ি কুমিল্লা ভ্রমণ

প্রিয় পাঠক,

আসসালামু আলাইকুম।

স্বাগত জানাচ্ছি কুমিল্লার ময়নামতি জাদুঘর ভ্রমণ এপিসোডে।

ময়নামতি জাদুঘরের অবস্থান: কুমিল্ল শালবন বিহারের সাথে সংলগ্ন। আপনি ঢাকা চট্টগ্রাম যে কোন স্থান হতে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এসে সেখান থেকে রিক্সা, সিএনসি বা অটোতে করে চলে আসতে পারেন।

Full HD Video on Moinamati Museum, Comilla.

ময়নামতি জাদুঘরে প্রবেশ মূল্য মাথাপিছু ২০ টাকা করে টিকেট কেটে আমরা প্রবেশ করছি ময়নামতির এই নৃতাত্বিক জাদুঘরে। আমরা দলে আছি আছি মোট ১০ জন।

ময়নামতি জাদুঘর
Ticket Price of Moinamati Museum, Comilla

কুমিল্লা জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা কাল: ১৯৬৫ সালে কোটবাড়ি কুমিল্লার শালবন বিহারের পাশে।

lok shilpa jadughar
জাদুঘরে প্রবেশের পূর্বে আমাদের ক’জন
moynamoti jadughor
জাদুঘরের ভিতরের দৃশ্য

জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য: শ্রীভবদের মহাবিহার, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া, রূপবানমুড়া, ইটাখোলা মুড়া, আনন্দ বিহার, রানীর বাংলা, ও ভোজ রাজার বাড়ি বিহার খননকালে যে সমস্ত প্রাচী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পুরাসামগ্রী সন্ধানপাওয়া যায় সেসব বস্তু সংরক্ষণ ও প্রদর্শন।

moynamoti jadughor

কুমিল্লা জাদুঘরের টিকেট মূল্য: জাদুঘরের প্রধান গেইট হতেই আপনি ২০ টাকা দিয়ে টিকেট করতে পারেন। তবে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকেট লাগে না। প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য ৫ টাকা, সার্কভূক্ত দেশের ভিজিটরদের টিকেট ১০০ টাকা আর অন্য দেশের জন্য ২০০ টাকা।

এই রেট বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত সবগুলি নৃতাত্বিক জাদুঘরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ময়নামতি জাদুঘর ছবি

আসুন জেনে নিই ময়নামতি জাদুঘর বন্ধ-খোলার সময়সূচীঃ

ময়নামতি জাদুঘর গ্রীষ্মকালে খোলা পাবেন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

নামাজ ও দুপুরের খাবারের জন্য দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে।

জাদুঘর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়।

আর শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে।

সাধারণ ছুটি রবিবার এবং সোমবার বেলা  ২.০০ থেকে   খোলা থাকে। এছাড়াও সরকারী কোন বিশেষ দিবসে জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন ।

সমগ্র জাদুঘরে মোট প্রদর্শনী বক্স/বস্ত রয়েছে ৪২টি।

comilla mainamati shalbon bihar

প্রদর্শনী আধারগুলোতে প্রত্মতাত্ত্বিক স্থান খননের উম্মোচিত স্থাপত্যসমৃদ্ধ ধ্বংসাবশেষের ভূমি-নকশা, ধাতু লিপি ফলক, প্রাচীন মুদ্রা, মৃন্ময় মুদ্রক-মুদ্রিকা, পোড়া মাটির ফলক, ব্রোঞ্জ মূর্তি, পাথরের মূর্তি, লোহার পেরেক, পাথরের গুটিকা, অলংকারের অংশ এবং ঘরে ব্যবহৃত মাটির হাড়ি পাতিল প্রদর্শিত হচ্ছে।

comilla buddha bihar

এছাড়া আধারের ফাঁকে ফাঁকে মেঝের উপর জাদুঘর ভবনের বিভিন্নস্থানে কিছু পাথর এবং ব্রোঞ্জ মূর্তিও প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। এসব মূর্তির কয়েকটি প্রাচীন সমতটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত।

comilla tourism,

জাদুঘরে প্রদর্শনের উল্লেখযোগ্য পাথর ও ব্রোঞ্জমূর্তি হচ্ছে- বিভিন্ন ধরনের পাথরের দন্ডায়মান লোকোত্তর বুদ্ধ মূর্তি, ত্রি বিক্রম বিষ্ণুমূর্তি, তারা মূর্তি, মারীছী মূর্তি, মঞ্জুরের মূর্তি, পার্বতী মূর্তি, হরগৌরীমূর্তি, নন্দী মূর্তি, মহিষমর্দিনী মূর্তি, মনসা মূর্তি, গনেশ মূর্তি, সূর্যমূর্তি, হেরুক মূর্তি এবং ব্রোঞ্জের বজ্রসত্ত্ব মূর্তি।

এক নজরে কুমিল্লা
best place in comilla

এছাড়াও ব্রোঞ্জের ছোট-বড় আরও মূর্তি রয়েছে। এ জাদুঘরে রয়েছে ব্রোঞ্জের তৈরী বিশালাকায় একটি ঘন্টা। যার ওজন ৫শ’ কেজি। এর ব্যাস ৮৪ সেন্টিমিটার। এর উপরের বেড়িসহ উচ্চতা ৭৪ সেন্টিমিটার।

শালবন বিহার কুমিল্লা
lok shilpa jadughar

এ জাদুঘরের আধারে সুরক্ষিত রয়েছে ময়নামতিতে পাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা। পোড়ামাটির ফলক। ব্রোঞ্জ ও তামার তৈরী সামগ্রী। লোহার তৈরী সামগ্রী। মাটির তৈরী বিভিন্ন প্রকারের খেলনা। কাঠের কাজের নিদর্শন। তুলট কাগজে লেখা প্রাচীন হস্তলিপির পান্ডুলিপি। বিভিন্ন নমুনার মৃৎপাত্র ইত্যাদি।

comilla city tour

Our Social Channels:

https://www.youtube.com/channel/UCf7V6mErZD00G4UAlXMbSiA?

https://www.facebook.com/Travell2Life
https://www.instagram.com/travell2life/
https://twitter.com/Travell2Life
https://www.pinterest.com/Travel2Life/
জ্বীন বনাম মাধ্যাকর্ষণ:মদিনার রহস্যময় জ্বীন পল্লীতে কি আছে?

জ্বীন বনাম মাধ্যাকর্ষণ:মদিনার রহস্যময় জ্বীন পল্লীতে কি আছে?

প্রিয় পাঠক, আস্সালামু আলাইকুম।

স্বাগত জানাচ্ছি মদীনার বিশ্ময় পল্লী ওয়াদিয়ে জ্বীন বা জ্বীনের পল্লীতে

মসজিদে নববী হতে প্রায় ৩৭ কিঃমিঃ দুরে এই জ্বীনের পল্লী অবস্থিত।

জ্বীনের পল্লীর সম্পুর্ণ HD ভিডিও দেখুন :

আগের দিন আমরা ভিজিট করেছি মক্কার জাদুঘর এবং আজ আমরা ভ্রমণ করছি ওয়াদিয়ে জ্বীন বা জ্বীনের পাহাড়।

আমরা যাচ্ছি ইনশাল্লাহ আপনাদের সেই অদ্ভুদ বিষয়টি দেখাব যেখানে মাধ্যকার্ষণ শক্তির বিপরীতে কাজ করে। অর্থাৎ কোন বস্তু উপর থেকে নীচে না গিয়ে নীচ থেকে উপরের দিকে যেতে থাকে।

location of jiner polli
আমরা মদীনার মসজিদ এ নববী’র নিকট হতে রওনিা হই জ্বীনের পল্লীর উদ্যেশ্যে

how to go to walide jin
আমরা ছুটে চলছি মদীনার পথে

ওয়াদিয়ে জীন যেতে আমরা সুন্দর রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আসলে পুরো মদিনা একটি পরিচ্ছন্ন শহর, যেন ছবির মত।শুধু হোটেল আর হোটেল।

আমরা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শহর, হোটেলের শহর মদীনা মনোয়ারা হতে অনেকটাই দুরে যাচ্ছি, যাচ্ছি ওয়াদিয়ে জীন বা জীনের পল্লীতে। রাস্তার দুপাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। আর আছে সারি সারি খেজুর গাছ। আমি সিওর না এগুলো কি মদিনার বিখ্যাত “আজওয়া” খেজুর নাকি অন্য কোন জাতের।

jiner pahar
রাস্তায় সারি সারি খেজুর গাছ

যাহোক আমরা এগিয়ে যাচ্ছি জীনের পাহাড়ের দিকে। আমাদের ড্রাইভারের বয়স বেশ বেশী হলেও তার গাড়ির গতি ৯০-১১০ কিঃমিঃ এর মধ্যে উঠা নামা করছে।

saudi arab madinah jiner pahar
ঐতিহাসিক ওহুদ পাহাড়ের কিছু অংশ

আমার হাতের ব্যাগ দেখিয়ে তিনি মজা করে বল্লেন” ব্যাগ ভরে জ্বীন নিয়ে আসব” হা হা হা।

wadi e jinn saudi arabia

চারিদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। আর পাহড়ের পাথর কোথাও কালো কোথাও লাল হয়ে আছে।

জ্বীনের পাহাড়ের রহস্য

আসলে শতাব্দীর পর শতাব্দী এই পাহাড় রোদে পুড়ছে। কবি যেন যথার্থই বলেছেন:  

”কখনও পাহাড় যেখানে পাথর

চিরদিন জেগে থাকে ……….. ”

একথা সৌদি আরবের জন্যই যেন লেখা।

যাহোক এগিয়ে যাচ্ছি জীনের পল্লীতে।

জীনের পল্লীতে যাওয়ার পথে আমরা মদীনা শহরের অন্যান জিনিস এবং শহরের বাইরের কিছু দৃশ্য দেখব ইনশাল্লাহ।

রহস্যময় জিনের পাহাড়
পাহাড় আর নীল আকাশের অপূর্ব সমন্বয়

আমরা ঐতিহাসিক ওহুদ পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আপনারা জানেন ইসলামের ইতিহাসে সেই ওহুদ যুদ্ধের কথা যেখানে মুসলমানরা জিততে জিততে হেরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয় মুসলমানদের।

wadi e jinn
দুম্বার হাট

সময় বিকাল। পরিস্কার নীল আকাশ। কনকনে শীতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। পাহাড়ের পিছনের নীল আকাশ খুব সুন্দর লাগছে।

dumba soudi arabia

আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করছেন আমরা রাস্তার ডানপাশ দিয়ে যাচ্ছি যেটি সৌদির নিয়ম, বাংলাদেশের ঠিক বিপরীত।

দেখতে পাচ্ছেন এখানে বেশ দুম্বা/ভেড়া এবং ছাগলের সমাহার দেখা যাচ্ছে। এই এলাকায় গবাদি-পশুর হাট বসে এবং কেনা বেচা হয়। এই সুযোগে গাড়িতে বসেই আমরা দুম্বা, ভেড়া, ছাগল আর উট দেখছি।

যাওযার পথে অনেক পশু খাদ্য গুদাম চোখে পড়ছে। যেখানে থরে থরে সাজানো রয়েছে পশুখাদ্য, ঘাস। প্রসংগত, এই খাদ্যগুলিও বিদেশ হতে আমদানী করা হয়ে থাকে। এ কারনে পরিবহনের সুবিধার্থে ঘাশগুলিকে অনেকটা কেক সদৃশ করে প্যাকড করা হয়েছে, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।

জীনের পাহাড়ের রহস্য
পশুখাদ্যের গুদাম

যাহোক, এগিয়ে যাচ্ছি ওয়াদিয়ে জীন বা জীনের পল্লীতে।

এখন কিন্তু আমরা মদীনা শহর হতে বেরিয়ে যাচ্ছি এবং এখান হতে মুলত গ্রাম এলাকা শুরু।

আরো একটা জিনিস লক্ষ্য করছি আমরা মদীনা হতে যতটা দুরে যাচ্ছি ততটাই নীচে নামছি। অর্থাৎ মদীনা হতে আমাদের গন্তব্য জীনের পল্লী অনেক নীচের দিকে অবস্থিত।

পাহাড় আর পাহাড়। আসলে সৌদিতে প্রায় সব রাস্তাই পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের নীচ দিয়ে গেছে।

how camel slaughtered
মদীনার উট ও এক নারী দর্শনার্থী

দেখতে পাচ্ছেন একটি সীর্ণকায় উট। আসলে আমাদের বাংলাদেশে যেমন একটা জীর্ণ-শীর্ণ গোড়ার সামান্য রাইড দিয়ে কিছু টাকা আয় করে এখানে এমনটা উট দিয়ে কেউ কেউ করে। এটা তেমনই।

যাহোক, অবশেষে চলে এলাম জীনের পল্লীতে।

জ্বীন পাহাড়
জ্বীনের পল্লী

আসলে আমি এধরনের বিষয় আগেও শুনেছি কিন্তু আমি দেখে বিশ্বাশ করতে চাই। তাই পানি ভর্তি বোতল ছেড়ে দিয়ে পরীক্ষা করছি। এবং দেখতে পাচ্ছেন আমরা যে উচু দিক হতে এসেছিলাম বোতলটি নীচু হতে সেই উচুদিকে গড়িয়ে যাচ্ছে। সত্যিই নীচু হতে উচুতে যাচ্ছে কেন যাচ্চে তা কেউ জানে না।

anti gravitation
জ্বীনের পল্লীর রাস্তা

এখন লক্ষ করুন আমরা ফেরত যাচ্ছি এবং এখন কিন্তু সেই নীচ হতে উচু রাস্তার দিকে আমাদের গন্তব্য। এবং গাড়ি চলছে কোন ইঞ্জিন ষ্টার্ট ছাড়া।

how gravity works

লক্ষ্য করুন স্পষ্টতঃই গাড়ি উপরের দিকে উঠছে কোন শক্তি ছাড়া। এটাই জীনের পল্লীর কারিশমা

secret of jiner pahar

যাহোক, আমরা এখন নীচু এলাকা হতে উচু এলাকার দিকে এগিয়ে যাচিছ গাড়ির কোন ইঞ্জিন শক্তি খরচ না করেই। এভাবে চলবে প্রায় ৩/৪ কিঃমিঃ। তারপর গাড়ি চলবে স্বাভাবিক গাড়ির শক্তিতে।

আল্লাহ হাফেজ

মক্কা জাদুঘর:নবী রাসুলদের ব্যবহৃত আশ্চর্য জিনিসপত্র

মক্কা জাদুঘর:নবী রাসুলদের ব্যবহৃত আশ্চর্য জিনিসপত্র

আস্সালামু আলাইকুম।

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গতকাল উমরাহ শেষ করে আজ আসছি জিয়ারাহ’ তে। আমাদের গন্তব্য মক্কা জাদুঘর (Makkah Museum Visit) পরিদর্শন। আমাদের টিমে আছি ১৫ জন। মসজিদ-আল-হারম হতে মক্কা মিউজিয়াম এর দুরত্ব মাত্র ৬-৭ কিলোমিটার। কোন ফি ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন মক্কা জাদুঘরে।

মক্কা জাদুঘরের সম্পূর্ণ HD ভিডিও দেখুন :

location of makkah Museum
Main Gate of Makkah Museum

জাদুঘরের গেটে আসছি জাদুঘর পরিদর্শন করার আশায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আজ সোমবার; শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য খোলা। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে পুরুষরা প্রবেশ করতে পারবেন। তো কি আর করা আমাদের কাফেলার মহিলা সদস্যরাই জাদুঘরের ভিতরে প্রবেশ করেন, আর আমরা গেটের বেইরে অপেক্ষা করি।

how to go to mecca Museum
In Front of Makkah Jadughor

আগের আল-আজহার প্যালেস ‘ টিকে জাদুঘরে রুপান্তর করা হয়েছে, যার আয়তন ৩৪৩৫ বর্গ মিটার। বাদশাহ আব্দুল আজিজ এর নির্দেশে এই জাদুঘর নির্মান কাজ শুরু হয় ১৩৬৫ আরবী হিজরীতে এবং শেষ হয় ১৩৭২ সালে। এখানে সৌদি আরবের প্রাক-ইসলামী ইতিহাসের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলি প্রদর্শন করা হয়।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ  চিত্র থেকে শুরু করে নানা ঐতিহাসিক বস্তু সামগ্রীর সংগ্রহ রয়েছে। রয়েছে হরেক রকম ক্যালিওগ্রাফি

holy things in makkah Museum
Calligraphy In the Makkah Museum
মক্কা জাদুঘরের ক্যালিওগ্রাফি
জাদুঘরের ক্যালিওগ্রাফি

 ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’- মক্কা নগরীর পবিত্র কাবা শরীফ বা আল্লাহর ঘর থেকে হেদায়েতের ডাক আসে প্রতিবছরই। লক্ষ লক্ষ মুসলিম হজ্ব মৌসুমে এবং সারা বছর উমরাহ’র উদ্দেশ্যে একত্রিত হয় পবিত্র কাবা শরীফে। হজ্ব এবং উমরাহর মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুসল্লিরা অনেকটা সময় পান। এসময় ইবাদতের সাথে সাথে ইসলামিক নানান ঐতিহাসিক স্থানগুলোও দর্শন করতে পারেন। 

মক্কা জাদুঘরের সময় সূচী
মসজিদ এ নববীর ডিজাইন

শুধুমাত্র ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নয় বরং ভ্রমণপিয়াসু যে কেউই ভ্রমণ করতে পারে পবিত্র মক্কা নগরী। হজ্বে বা ভ্রমণে গেলে ঘুরে দেখতে পারেন মক্কা জাদুঘর। কাবা শরিফের বেশ কাছেই মক্কা জাদুঘর। জাদুঘরটি সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট কাটা লাগে না। 

তবে প্রতি সপ্তাহে সোমবার শুধমাত্র মহিলাদের জন্য খোলা থাকে। তো আমরা এই সোমবারেই এখানে এসে উপস্থিত হয়েছি। যেহেতু বিষয়টি জানা ছিল না তাই শুধমাত্র আমাদের মহিলা সদস্যরাই ভিতরে পরিদর্শনের সুযোগ পায় আর আমরা বাহিরে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

দুই তলা বিশিষ্ট মক্কা জাদুঘরে সংরক্ষিত  রয়েছে সৌদি আরবের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পোশাকপরিচ্ছদ, আসবাবপত্র, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি।

তবে এখানে সংরক্ষিত সবকিছুই কাবা কেন্দ্রীক। এছাড়াও রয়েছে প্রাচীন সৌদি আরবে ব্যবহৃত ধাতব মুদ্রার বেশ বড় সংগ্রহশালা।

মূলত মক্কা জাদুঘর কাবা শরিফমসজিদে নববীর বর্তমান রূপের আগে বিশেষ করে তুর্কি আমলের ব্যবহৃত জিনিপত্রের সংরক্ষণাগার। বিশেষ করে কাবাকেন্দ্রীক প্রতিটা জিনিস এখানে সংরক্ষিত আছে।

জাদুঘরে প্রবেশের মুখে রাখা হয়েছে ২০৫০ সাল নাগাদ বর্তমান সৌদি সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেমন হবে মসজিদে হারাম মক্কার অবয়ব। তবে এখানে শুধুমাত্র মক্কা নয় বরং মক্কাসহ মদিনা  সভ্যতারও অনেক কিছু সংরক্ষণ করা আছে।

master plan for makkah city and masjid al haram
Master Plan For Makkah City And Masjid Al Haram BY 2050

বিশ্বের এক অনন্য নিদর্শন হলো জমজম কূপ। আরবি ভাষায় জমজম শব্দের অর্থ ‘ অঢেল পানি’। মক্কা জাদুঘরে রয়েছে ১২৯৯ হিজরি সনের জমজম কূপের একটি নিদর্শন এবং জমজম কূপের থেকে পানি উত্তোলনের পুরনো যন্ত্রপাতি, জমজম কূপের পানি বিতরণের চিত্রও সংরক্ষিত রয়েছে অতি যত্নে।

Ancient Zam Zam Kup
Ancient Zam Zam Kup

এছাড়াও রয়েছে প্রাচীন আমলের অনেকগুলো পবিত্র কোরআনের কপি যা অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাচের ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জেনে আশ্চর্য হবেন যে, অপূর্ব সুন্দর  কারুকাজ এবং রকমারি ডিজাইনের লেখা স্বর্ণ ও রুপার রংমিশ্রিত কালিতে এসব লেখা কিন্তু কোন প্রেস বা কম্পোজ করা নয়। 

সবচেয়ে পুরাতন কোরনের কপি
সবচেয়ে পুরাতন কোরনের কপি

সবই হাতে লেখা যদিও আপনার দেখে তা মনে হবে না। সাথে এক দৃষ্টিতে থাকলেও আপনার মুগ্ধতার রেশ কাটবে না। এসব কোরআনের কপিগুলো খুবই প্রাচীন কোনোটি ৩৮১ হিজরি সনের, আবার কোনোটি ৬৮৫ সনের।

তবে মক্কা জাদুঘরের সবচেয়ে দামী সংগ্রহ হলো- কোরআন মাসহাফে উসমানির একটি কপি যা হজরত উসমান (রা.)-এর আমলের হাতে লেখা।

খলিফা হযরত উসমানের (রাঃ) সময়ের পবিত্র কোরআন
খলিফা হযরত উসমানের (রাঃ) সময়ের পবিত্র কোরআন

মক্কা জাদুঘরে ঘুরতে ঘুরতে একসময় দেখতে পাবেন কাবা ঘরের স্থাপনায় ব্যবহৃত বিভিনন্ন সময়ের নানারকম স্থাপত্য শৈলীর অনেক নমুনা,আরবী আয়াত উৎকীর্ণ পাথর খণ্ড, প্রাচীন কাবা শরীফের বিবর্তনকালের অনেক ছবি রয়েছে।

বেশ কিছু ক্যালিওগ্রাফিও অত্যন্ত সুন্দর ভাবে দেয়ালে সাজানো রয়েছে যা প্রাচীন  মুসলিম সভ্যতার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এছাড়াও সংরক্ষণ করা আছে প্রাচীন কাবা ঘরের ব্যবহৃত দু’টি কাঠের দরজা, আরো আছে ৯৬৬ হিজরি সনে কাবার দরজার বিশেষ নকশা যা অটোম্যান শাসক সুলতান সোলাইমান বিন সালিম খাঁন দিয়েছিলেন।

আগের দিনের মিনারের ডিজাইন, কাবার অভ্যন্তরের কাঠের বাক্স যা ১৪০৪ হিজরি সনে ব্যবহৃত হয়েছিলো।

আরো আছে কাবার গিলাফ (যদিও প্রতি বছর কাবা শরীফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয় এখানে প্রাচীন একটি গিলাফ দেখতে পারবেন), হাতে কাবার গিলাফ বুননের যন্ত্র, কাবার ভেতরে ব্যবহৃত কাঠের খুঁটি যা ৬৫ হিজরি সনে ব্যবহৃত হয়েছিলো এবং নির্মাণ করেছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের

gilaf of kaba sharif
কাবার গিলাফ

পবিত্র পাথর হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর সংরক্ষণের জন্য বানানো রূপা দ্বারা নির্মিত বিশেষ ফ্রেম রয়েছে।

hazre aswad black stone
হাজর এ আসওয়াদ বা কালো পাথর

আরো দেখতে পাবেন কাবার ছাদের পানি নিষ্কাষণের জন্য বিশেষ পাইপ

১২৪০ সনে কাবায়  ব্যবহৃত কারুকাজ সম্পন্ন বিশেষ সিঁড়ি যা কাঠ দিয়ে তৈরি।

the holy things of baitullah
কাবা ঘরের ভিতরের সিড়ি

অনেক দূর থেকে সময় দেখার প্রাচীন আমলের বিশাল ঘড়িও সংরক্ষণ করা আছে মক্কা জাদুঘরে।

মক্কা জাদুঘরের পাশে উম্মুল জুদ নামক একটি জায়গা আছে যেখানে কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা স্থাপিত। স্থানীয় ভাষায় গিলাফ তৈরির কারখানাকে কিসওয়া কাবা বলা হয়। ১৩৯৭ হিজরি সনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গিলাফ তৈরির এই অসাধারণ কারখানাটি। যদিও এখানে সর্বসাধারণের প্রবেশের অনুমতি নেই। তবে বাইরে থেকেও অনেক কিছুই দেখে আত্নতৃপ্ত হওয়া যায়।

একটু সামনেই রয়েছে মক্কাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা রাবেতা আলম আল ইসলামি বা মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ অফিস।

Our Social Channels: Youtube

Our Blog : VromonBangla

Facebook Page : Travel2life

https://twitter.com/Travell2Life