বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বাধ্যতামুলক বীমা স্বস্তির না ভোগান্তির?

বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বাধ্যতামুলক বীমা স্বস্তির না ভোগান্তির?

বীমা সংক্রান্ত নীতিমালা : ”প্রবাসী কর্মী বীমা নীতিমালা

বীমা নীতিমালা গৃহীত হয় : ১৪ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে।

যাদের জন্য প্রযোজ্য: বিদেশগামী কর্মী যাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৮ বছর।

চুক্তি সম্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান : ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও জীবন বীমা কর্পোরেশন।

চুক্তি সম্পাদন : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯।

১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন বিদেশগামী কর্মীদের বাধ্যতামুলক এই বীমা।

লক্ষ্য : এই বীমার মাধমে বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষা হবে বলে আশাবাদ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের।

life insurance authority bangladesh

বীমা প্রিমিয়াম ও বীমা পলিসি :

২ বছরের জন্য বীমা প্রিমিয়াম ৪৯০/০০ টাকা, বীমা পলিসি ২,০০,০০০/০০ টাকা।

২ বছরের জন্য বীমা প্রিমিয়াম ৯৭৫/০০ টাকা, বীমা পলিসি ৫,০০,০০০/০০ টাকা।

বীমা সুবিধার পরিমান : ২ লক্ষ টাকা। তবে ভবিষ্যতে তা বাড়তে পারে।

সরকার কর্তৃক প্রদেয় ভর্তুকি : প্রতি বছর যে সাড়ে সাত লাখ কর্মী বিদেশে পাড়ি জমান তাদের জন্য সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

remittance fighters

বীমা দাবীর টাকা অনলাইন ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে বিধায় বাংলাদেশে বীমা সেক্টরে যে অনিশ্চয়তা থাকে তা থাকবে না বলে আশ্বস্ত করেন সংশ্লিস্ট মন্ত্রী, সচিব ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ।

জীবন বীমা করপোরেশন এক বছরের জন্য এ বীমা বাস্তবায়ন করবে।

বিদেশগামী কর্মীকে ছাড়পত্র সংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়ার সাথে তার জন্য প্রযোজ্য বীমা প্রিমিয়াম ও পরিশোধ করতে হবে এবং ছাড়পত্র গ্রহন করতে হবে বলে মন্ত্রনালয় কর্তৃক জানানো হয়।

এই বীমা হতে পারে নানা সমস্যা আর অনিশ্চয়তার জর্জরিত বিদেশগামী কর্মীদের একটুখিানি আশার আলো। তবে বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ছাড়পত্র গ্রহনের নামে তা যেন হয়রানির আরেকটি ধাপে পরিনত না হয় এই প্রত্যাশা সকলের।

তথ্যসূত্র : প্রথম আলো

খৈয়াছড়া ঝর্ণা ভ্রমন গাইড: কোথা হতে কিভাবে এবং প্রস্তুতি

খৈয়াছড়া ঝর্ণা ভ্রমন গাইড: কোথা হতে কিভাবে এবং প্রস্তুতি

প্রিয় পাঠক,

আসসালামু আলাইকুম

স্বাগত জানাচ্ছি চট্রগ্রামের সবচেয়ে উচ্ছল, প্রাকৃতিক আকর্শনীয় এবং লাইভ খৈয়াছড়া ঝর্ণা অভিযানে। অবস্থান চট্টগ্রামের মিরশরাই উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে হতে ৩/৪ কিলোমিটার পূর্বদিকে।

আমি খৈয়াছড়া ঝর্না টুরের প্রতিটি দৃশ্য, খুটি নাটি এবং জানা-অজানা তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করব তাই খৈয়াছড়া ঝর্না ভিডিও একটু দীর্ঘ হলেও পুরা ভিডিও দেখুন। এটি বাস্তবের মত উপভোগ্য হবে নিশ্চিত।

আসুন শুরু করি খৈয়াছড়া ঝর্ণা (মিরসরাই, চট্টগ্রাম) অভিযান !!

আলিফ হোটেলে সকালের নাস্তা

চট্টগ্রামের অলংকার মোড়ের আলিফ হোটেলে সকালের নাস্তা সেরে আমরা ৫ বন্ধু চয়েস পরিবহনের একটি গাড়িতে রওনা হই। ভাড়া মাথাপিছু ১০০ টাকা। প্রায় ৫০ মিনিটে আমরা পৌছে যাই ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের খৈয়াছড়া পয়েন্টে।

Khoiyachara, Dhaka-Chattogram Highway

এখানে আমরা উচু-নীচু বন্ধুর রাস্তায় পায়ে যাতে কোন আঘাত না লাগে সেজন্য ৪৫ টাকা দরে ১ জোড়া করে এ্যাংকলেট ক্রয় করি। তার পর টং হোটেলে ১ কাপ চা, সাথে সিংগাড়া। খরচ ১০ টাকা করে।

হাইওয়ে টু ঝর্ণা ভাঙ্গা রাস্তা

মাথাপিছু ২০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি তে উঠে পড়ি। ১০ মিনিটের রাস্তা। অর্ধেক রাস্তা কাচা, খুবই খারাপ অবস্থা, বাকি অর্ধেক কর্পেটিং করা, বেশ ভাল। জানা গেল খুব শীঘ্র এ রাস্তায় উন্নয়নের ছোয়া লাগবে।

১০ মিনিটের মধ্যে পৌছে যাই পার্কিং জোনে। এখানে গাড়ি পার্কিং করে রেখে আপনি ভ্রমন করতে পারেন।

প্রত্যেকে ১টি করে বাঁশের লাঠি কিনে নিই দাম ১০ টাকা। উচুনীচু রাস্তায় ব্যালেন্স রাখার জন্য এই লাঠি খুবই দরকারী। তাছাড়া পানির মধ্যে চলার সময় পানির গভীরতা মাপার জন্যও এই লাঠি আপনাকে সাহাজ্য করবে, কারন পানির গভীরতা কোথাও কম, কোথাও বেশী।

Wooden Bridge : Way to Khoiyachara Waterfalls
Another Wooden Bridge

যাওয়ার পথে কয়েকটি বাঁশ/কাঠের সাকো দেখা গেল।

কয়েকটি হোটেলও পাবেন যাওয়ার পথে।

Jhorna Hotel
Lunch @ Jhorna Hotel

আমরা উঠলাম ঝর্ণা হোটেলে।

এটি আসপাশের ভুমি হতে বেশ উচুতে তৈরী। গাছপালা, ফুল ও বাঁশঝাড়ে ঘেরা। রয়েছে ছাতায় ঘেরা বসার রাউন্ড টেবিল। এখানেই আমরা বিশ্রাম নিয়েছি, আড্ডা মেরেছি এবং লাঞ্চ করেছি। বেশ রোমান্টিক রোমান্টিক লাগে। খুব সীমিত মূল্যে অনেক ভাল খাবার পাবেন এই হোটেলে

যাহোক, এই হোটেলে আমরা ড্রেস চেঞ্জ করি।

আমাদের ড্রেস রাখার পর লকারের চাবি আমদের কাছে রাখি এবং ফেরার পথে এখানে গোসল, বিশ্রাম এবং লাঞ্চ সেরে আমরা ফিরে যাব।

লাঞ্চের অর্ডার আমরা আগেই দিয়ে দেই। ন্যাচারাল স্বাদের দেশী মুরগীর মাংশ, ডাল, আলু ভর্তা, সালাদ আর চা; মাথাপিছু ১৩০ টাকা খরচ।

এখন সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ (ভাদ্র মাসের ২য় সপ্তাহ)। আকাশ বেশ মেঘলা আবার কখনও কখনও রোদ; তবে প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম।

বনের ফাকে মেঘলা আকাশ
মেঘলা আকাশ বন আর ঝর্ণার অপুর্ব সমন্বয়

আমরা যথেষ্ঠ পানি নিয়েছি, নিয়েছি শুকনো খাবার, কোক, কলা, বিস্কুট, চকলেট। এছাড়া আমার ব্যাকপ্যাকে আছে কিছু শুকনো খাবার, আধা লিটার পানি (অতি ইমারজেন্সির জন্য), একটি ছাতা, বৃষ্টিতে আমার ক্যামেরা এবং গেজেট সেইফ রাখার জন্য কয়েকটা প্লাস্টিক ব্যাগ।

আর ভ্রমনের শেষ দিকে গোসলের জন্য কাপড় চোপড় আমরা হোটেলের লকারেই রেখে এসেছি।  

আমরা ঝর্ণা হোটেল হতে রওনা হচ্চি আসল গন্তব্য খৈয়াছড়া খর্ণার দিকে। যাচ্ছে আরও অনেক পর্যটক। আমি হোটেলের নিচে ক্যামেরা নিয়ে অপেক্ষা করছি আমার টিমের ভিডিও করার জন্য কিন্তু ওদের দেখা না পেয়ে আবার যাই হোটেলে। হোটেল বয় বল্ল যে আমার টিম ইতিমধ্যে চলে গিয়েছে। আমি ধাক্কা খেলাম। কি আর করা। আমি দ্রুত গতিতে ছুটলাম টিমের সাথে জয়েন করার জন্য। কাধে ব্যাগ, হাতে ভিডিও ক্যামেরা, অন্য হাতে লাঠি নিয়ে বন্ধুর কর্দমাক্ত রাস্তায় দ্রুত বেগে হাঁটছি। কয়েকটি টিমকে টপকে আমি দ্রুত ছুটিছি আর ছুটছি! টিমের দেখা নাই। এক পর্যায়ে আমি খুব ক্লান্ত হয়ে যাই। পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ।

একটু থামলাম, আমার ব্যাগের ইমারজেন্সি পানি কাজে লাগল।

এখানে বলে রাখি টিম হতে বিচ্ছিন্ন হওয়া একদমই ঠিক না। আর ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওযে হতে সকাল ১০/১১ টার দিকে মেইন ঝর্ণার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া উচিত কারন তখন অনেক পর্যটকের আনাগোনা থাকে। যদিও কোন নিরাপত্তাহীনতার কথা শুনিনি তবুও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় অধিকতর সচেতন থাকা উচিৎ।

খৈয়াছড়ার দুর্গম কাঁদাযুক্ত পথ

বন-বাদাড়ের মধ্য দিয়ে সর্পিল রাস্তা। একদিকে যেমন উচুনীচ অন্যদিকে খুবই কর্দমক্ত। সাথে কাঁদার মধে্য আছে গাছের শিকল, পাথরের কুচি ইত্যাদি। আর আছে পাহাড়ী জোঁক। তাই গোলাপের যেমন কাটা আছে তেমনি খৈয়াছড়া ঝর্নার অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে গেলে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়েই পৌছাতে হয় মুল গন্তবে।

ভয়ঙ্কর সুন্দর পহাড়ী পথ

পথে চলতে চলতে ছোট বড় দল বাধা পর্যটকদের চোখে পড়ছে। কেউ বা আবার ফিরেও আসছে। তবে আমার টিমের দেখা নাই।

বর্ষায় নতুন সাজে বন-বনানী

এদিকে সবুজ বন আর পাশ দিয়ে বয়ে চলা ঝর্না ধারার কল-কল শব্দ শুনতে শুনতে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

পথিমধ্যে কোন কোন স্থানে ঝর্ণা হতে বয়ে আসা পরিস্কার পানি সংগ্রহ করছে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য।

স্পষ্টতই, বর্ষার জলে পাহাড়ী গাছ আর প্রকৃতি যেন নতুন রুপে সেজেছে আর সেই রুপ উপভোগের জন্য ছুটে আসছে শত শত পর্যটক।

ঝর্নার পথে নারী পর্যটকও কম নয়

কাঁদা আর পানিতে ভিজে পাথুরে রাস্তা খুবই পিচ্ছিল থাকে তাই খুব সাবধানে চলাচল করা দরকার।

প্রকৃতির সৌন্দর্য কখনও কখনও উদাষ করে

প্রিয় পাঠক, অবশেষে খৈয়াছড়া ঝর্ণার একেবারেই কাছে আসার পরে আমার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া টিম এর দেখা পেয়েছি। তাদের কিছুক্ষন বিলম্ব এবং হোটেল বয়ের ভুল তথ্য দেওয়ার কারনে এমনটা হয়েছে। এতক্ষন পরে এসে তারা ফটোসেশনে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল। 

ক্যামেরায় ধরা খাইছে ৪ যাযাবর

এই যে কাজলের মত ফর্সা যে চাঁদমখ খানা দেখতে পাচ্ছেন উনি মিঃ মুনীর ওরফে স্বন্দ্বীপ মুনির। ১০০ টাকা ভাড়ায় ওনাকে গাইড হিসাবে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় তার দুপুরের খাবার ফ্রি। কিন্তু জাতীয় ড্রেস লুঙ্গি পরা, আর দায়িত্বে চরম ব্যার্থতার দায়ে তাকে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সুতরাং ওনাকে গাইড হিসাবে পাওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা না করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।  

যাহোক, অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমরা চলে এসেছি কাংখিত খৈয়াছড়া ঝর্ণার মুল গন্তব্যে। এখানে যেমন এসেছে শিশুরা, তেমনি এক ঝাক তরুন আর আমাদের মত বয়স্করাও। পুরুষ পর্যটকদের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মত। চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা ঝর্ণার রিনিঝিনি শব্দ, পাখির কলরব, ঝিঝি’র ডাক আর আনন্দে আত্মহারা মানুষের চিৎকার চেচামেচিতে পাহাড়ী বন যে জেগে উছেছে অন্য এক আমেজে।

অপরুপ উচ্ছলতায় ঝর্ণা
উচ্ছল ঝর্ণায় উদ্দাম পর্যটক

কবি ঝর্নাকে “পাহাড়ের কান্না” বলে মনে হয় ভুলই করেছেন। আমার তো তাই মনে হয়। পাহাড়ের রিনিঝিনি নৃত্য আর হাসির ঝলকের সমন্বয়েই ঝর্নার সৃষ্টি।

ঝর্নার জলে অবগাহন
ঝর্নার জলে অবগাহন
ঝর্নার জলে উচ্ছল তারুন্য

ঝর্নাকে পাহাড়ের হাসি বা “কান্না” যাই বলি না কেন ঝর্ণা কিন্তু আমাদের প্রাকৃকি সৌন্দর্যের উৎস আর আনন্দের খোরাক।

তাই আসুন খৈয়াছড়ায়, দেখুন প্রকৃতি, জানুন দেশ, ভালবাসুন বাংলাদেশ ।

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আল্লাহ হাফেজ।

আসসালামু আলাইকুম। 

Our Social Channels:

Blog: VromonBangla

Facebook.com/Travell2Life

Youtube.com

Instagram.com/Travell2life

Twitter.com/Travell2Life

Pinterest.com/Travel2Life

Chera Dwip Tour Documentary|ছেড়া দ্বীপ ভ্রমণ গাইড

Chera Dwip Tour Documentary|ছেড়া দ্বীপ ভ্রমণ গাইড

অনেক আশা ভরসা ত্যাগ ও অপেক্ষার পর সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছেড়া দ্বীপ (Chera Dwip) ভ্রমণ করছি। আসলেই বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ (Saintmartin Dwip)। সেন্টমার্টিনের সর্ব দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন বা নারিকেল জিঞ্জিরা।

how to go to chera dip from saint martin
Chera Dwip (ছেড়াদ্বীপের ড্রোন ভিউ)

সেন্টমার্টিই একটি ক্ষুদ্র অংশ যেখানে কোনো স্থায়ী বাসিন্দা নাই। নাই কোন দোকান-পাট, ব্যবসা কেন্দ্র বা রেস্টুরেন্ট। সেন্টমার্টিনের হতে ছেড়াদ্বীপের দুরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার এবং আয়তন ৩ বর্গ কিলোমিটার। এই তো সেদিন ২০০০ সালের আগেও এটি অজানাই ছিল।

আপনি যদি ঢাকা হতে আসেন তাহলে হানিফ, সৌদিয়া সহ অনেকগুলি প্রতিষ্ঠিত পরিবহনে আপনি যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে সরাসরি আপনি টেকনাফ আসতে পারেন।

Waterfalls in teknaf
টেকনাফ এলাকায় ঘুরাঘুরি
Tourism in Teknaf, Cox's Bazar
টেকনাফ সাগর পাড়
Hotel Poushi in Teknaf
POUSHI Hotel and Restaurant, Teknaf

যদি আপনি চট্টগ্রাম থেকে যেতে চান তাহলে চট্টগ্রাম দামপাড়া ও স্টেশন রোড থেকে টিকেট কেটে নিতে পারেন এবং পৌঁছে যেতে পারেন টেকনাফ। এছাড়া, যারা একই টুরে কক্সবাজার ঘুরতে চান তারা কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যেতে পারেন এবং সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে সব ক’টি জাহাজ /লঞ্চ এ টেকনাফ জাহাজ ঘাট থেকেই সকাল ৯ টা থেকে সাড়ে ৯ টার মধ্যে সেন্টমার্টিন এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সেন্টমার্টিন টুর এর কোন এক পর্য়াযে আপনি ঘুরে আসতে পারেন ছেঁড়াদ্বীপ।

how to got to saintmartin to chera dwip
Cockpit of the Boat : Way to Chera Dwip
Tourism in Chera Dwip
natural beauty in Saint martin and cheradwip
A Crab (কাকড়া ) under the Crystal Clear Water

টেকনাফের পেনিনসুলা পয়েন্ট (Teknaf Peninsula Point) হতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ (St. Martin Islands) এর দুরত্ব ৯ কিলোমিটার।

Sea Truck, Launch, Ship গুলোর ভাড়া প্রকারভেদে ৫০০-১০০০ টাকা। সি ট্রাকগুলোর মধ্যে, Keari Cruise and Dine, Keari Sindbad, Green Line বেশ পরিচিত।

যোগাযোগের জন্য:

কেয়ারি গ্রুপের শীপের বুকিং এর জন্য যোগাযোগ : 01817-148735, 01817-048597, 01841-094179, 01712114009 (ধানমন্ডি, ঢাকা অফিস),

আর যদি আপনি এলসিটি কুতুবদিয়ায় যেতে চান সেক্ষেত্রে যোগাযোগ : ০১৭১৪৬৩৪৭৬২ (পল্টন, ঢাকা অফিস),

এবং গ্রীন লাইন এর মোবাইল নম্বর: ০২৯৩৩৯৬২৩, ০২৯৩৬২৫৮০।

আমরা সেন্টমার্টিন এ লাইট হাউজ রিসোর্টে উঠেছিলাম। এটি জাহাজ ঘাট হতে সমুদ্রের তীর ঘেসে দক্ষিন দিকে পায়ে হাটার পথে নৌ বাহিনীর অফিস লাগোয়া।

তাদের বিভিন্ন সাইজের রুম আছে; ভাড়াও বিভিন্ন (১২০০-২৫০০ টাকা)। Light House Resort contact: 01819036363.

tourism in Bangladesh

সেন্টমার্টিন হতে বিভিন্ন উপায় ছেড়া দ্বীপে যাওয়া যায়। আপনি যদি চান ভাটার সময় সেন্টমার্টিনের মূল ভূখণ্ড হতে ছেড়া দ্বীপে পায়ে হেঁটেই যেতে পারবেন। সময় লাগবে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। তবে এটি অনেকেই জানে না এবং বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন তাঁরাই হেঁটে যেতে পারেন।

Walking Through Chera Dwip, Saint Martin

কিন্তু আপনি চাইলে বা আপনার যদি যথেষ্ট সময় না থাকে আপনি সেন্ট মার্টিন জাহাজঘাট এর বিপরীত দিক থেকে সাম্পান ভাড়া করতে পারেন। এখানে ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের সাম্পান (কাঠের নৌকা) ভাড়া পাওয়া যায়। সেন্টমার্টিন হতে ছেড়া দ্বীপের ভাড়া সাইজ এবং যাত্রী সংখ্যা ভেদে ভাড়া বিভিন্ন হয়ে থাকে।

আবার আপনি চাইলে দ্রুত যেতে স্পিড বোট ব্যবহার করতে পারেন। সাম্পানে যেতে আপনার সময় লাগবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট, স্পিড বোটে সময় লাগবে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাত্র।

সেন্টমার্টিন হতে ছেড়া দ্বীপের সাম্পান ভাড়া ৮০০ হতে ১৫০০ টাকা বা মাথাপিছু ভাড়া যেতে পারেন ১০০-১৫০ টাকা।

সেন্টমার্টিন হতে ছেড়া দ্বীপের স্পিড বোট ভাড়া ১২০০ হতে ২০০০ টাকা বা মাথাপিছু ভাড়া যেতে পারেন ৩০০-৪০০ টাকা।

এই ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি হেঁটে গেলে যথেষ্ট সময় এবং পরিশ্রমের ব্যাপার রয়েছে এবং সেটা জোয়ার-ভাটা হিসাব করে আপনাকে যাওয়া-আসা করতে হবে। অন্যদিকে, সাম্পানে গেলে আপনি যথেষ্ট নিরাপদ তবে সাম্পান অথবা স্পিডবোট যেটাতেই যান আপনি অবশ্যই চেক করে নিবেন ওই বোটে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট আছে কিনা।

From Saint Martin to Chera Dwip via Speed Boat

আপনি যখন সেন্টমার্টিন হতে ছেড়া দ্বীপ যাবেন, দেখতে পাবেন সেখানে রয়েছে অসংখ্য জীবিত ও মৃত প্রবাল বা কোরাল। মাটি বা বালু খুব কমই দেখবেন। আর এই প্রবল গুলোর কারনেই সমগ্র সেন্টমার্টিন এবং বিশেষ করে ছেড়া দ্বীপের পানি খুবই পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ। আরও লক্ষ্য করলে দেখবেন ছেড়া দ্বীপের কূলে ৮-১০ ফুট বা তার চেয়ে বেশী গভীর পর্যন্ত খালি চোখে পরিষ্কার দেখা যায়। আছে ছোট ছোট মাছ, শেওলা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণী।

romance in saintmartin
Enjoy Chera Dwip, St Martin
coral: the natural beauty of Chera Dwip
Coral in Chera Dwip
beauty of bangladesh
ছেড়া দ্বীপের প্রবাল

পরিষ্কার পানির মৃত প্রবাল গুলির মৃত অবস্থায় পাথর রুপই আমরা দেখি। আপনি যখন ছেড়া দ্বীপের পানির নিকট যাবেন তখন এখানকার বিস্তৃত জলরাশি এবং বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ এবং সমুদ্রের গর্জন সবকিছু মিলে আপনি একটা অন্যরকম মোহের মধ্যে চলে যাবেন। অনেকেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে পানিতে লাফালাফি শুরু করেন। কিন্তু লক্ষ্য রাখবেন ছেঁড়াদ্বীপে জোয়ারের সময় যে পানি দেখা যায় পানির অল্প নিচেই শক্ত এবং ধারালো কোরাল বা পাথর রয়েছে।

Oyster (ঝিনুক) ‍at Chera Dwip

সেজন্য এখানে অফিশিয়ালি সাইনবোর্ড টাঙানো আছে সাঁতার না কাটার জন্য। এ বিষয়টি আপনি এবং আপনার সঙ্গীদের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন। অন্যথায় আপনি আপনার ভ্রমনকে নিষ্কণ্টক করতে পারবেন না।

আসলে এই ছেঁড়া দ্বীপ এমন একটি মজার জায়গা যেখানে আপনি দেখতে পাবেন কোথাও কোথাও ২০০ গজের মধ্যেই উভয় পাশে বিস্তৃত সাগর চোখে পড়বে। মাঝখানে সামান্য স্থলভাগ।

আরও দেখবেন অসংখ্য শামুক-ঝিনুক উদ্ভিদ ও প্রাণী এবং এই সমস্ত জীব বৈচিত্র্যের জন্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারনেই সেন্টমার্টিন এবং ছেঁড়া দ্বীপ আমাদের কাছে এতটা আকর্শণীয়। সুতরাং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এবং আকর্ষণীয় এই পর্যটন দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র, উদ্ভিদ ও প্রাণী রক্ষা করা একান্ত কর্তব্য। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের নাগরিক এবং নৈতিক দায়িত্ব।

Follow us at Twitter.com/Travell2Life

Facebook.com/Travell2Life

Visit us at Youtube

[smartslider3 slider=3]

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড

আমাদের সহকর্মী শাহাজাহাান ভাই। ওনার খুব ভ্রমণের বাতিক আছে সাথে রেজা ও মনির ভাইও কম যায় না। দেশের হেন কোন জায়গা নাই যেখানে তাদের তিনজনের পদচিহ্ন পড়ে নি। আমরা অতটা ঘুরতে পারি না। ইচ্ছা থাকলেও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কারনে সব সময় তাদের সফর সংগী হতে পারি না। আমার মত আরেক ফ্যামিলি শামীম এবং তার মিসেস।

Full Video of the Saint Martin Tour

যা হোক, শাহাজাহান ভাই’র প্রস্তাব আমার সবাই লুফে নিলাম এবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমনে যাব। 

আমাদের সবার পরিবার

যে কথা সেই কাজ। আমরা আমাদের সবার পরিবারের ছুটিসহ অন্যান্য বিষয় আলাপ করে সিদ্ধান্ত হল আমরা ০৮ হতে ১০ ফেব্রুয়ারী সেন্ট মার্টিন ও ছেড়া দ্বীপ ভ্রমণ করব ইনশাল্লাহ। 

আসলে ০৮ ফেব্রুয়ারী রাত ১২ টায় আমরা চট্টগ্রাম দামপাড়া হতে সৌদিয়া নন এসি গাড়িতে যাত্রা করি টেকনাফের উদ্দেশ্যে। আমাদের টিমে ছিল মোট ৫ পরিবার ১৭ সদস্য। চট্টগ্রাম হতে টেকনাফ সিট ভাড়া ৪০০ টাকা (নন এসি) তবে আপনি এসি বাসে যেতে চাইলে ভাড়া গুনতে হবে  প্রতি সিট ১০০০-১২৫০ (এসি) টাকা। 

অনলাইন বুকিং বাসের টিকেট

Greenlinebd.com

গ্রিন লাইন পরিবহন কাউন্টারের যোগাযোগ:

01730060004, 01970060004, 01730060071, 01730060072, 01730060073,

Shohoz.com ( Call Center -16374 বাসের টিকেটের জন্য প্রযোজ্য। )

Saintmartinparibahanbd.com ( Call Center 16460 বাসের টিকেটের জন্য প্রযোজ্য ) Hotline:01762691339-40

সেন্ট মার্টিন পরিবহন কাউন্টারের যোগাযোগ:

01762691339-40, 01762-691345

সৌদিয়া কোচের দামপাড়া, চট্টগ্রাম কাউন্টারের যোগাযোগ:

ফোনঃ 01919-654903, 031-28633399, 01919-654902, 031-2863455;

যাহোক, আমরা সবাই যার যার স্থান হতে যথাসময়ে দামপাড়া বাস কাউন্টারে উপস্থিত। সময়মত বাস ছেড়ে দিল। রাস্তায় কোন যানজট ছিল না বিধায় ভোর হওয়ার কিছুটা আগেই আমরা পৌছে যাই টেকনাফে।

যেহেতু অন্ধকার ছিল এবং জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছাড়বে সকাল ৯ টায় তাই আমরা আগেই টেকনাফ শহরের ‘‘প উ ষী” আবাসিক হোটেলে ৩টি রুম কয়েক ঘন্টার জন্য ভাড়া করে রাখি এবং সেখানে আমরা যাত্রা বিরতি করি। আমাদের সাথে থাকা মহিলা ও বাচ্চারা সহ সবাই ফ্রেশ হই। কয়েকজন টেকনাফ ঘাট এলাকায় ঘুরাঘুরি করি।

রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা

আমাদের রেজা ভাই এবং তার পরিবার যায় ঐতিহাসিক ”মার্টিন কুপ” (Martin Coup) দেখতে। এরপর সবাই একসাথে ”প উ ষী” এর নিচ তলার রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা করি। 

টেকনাফ জাহাজ ঘাটে

তারপর একটি মাইক্রোতে চড়ে আমরা যাই টেকনাফ জাহাজ ঘাটে।

অপেক্ষা করি জাহাজের জন্য এবং সময়মত উঠে পড়ি আমাদের জাহাজ “কেয়ারী কুরুজ এন্ড ডাইন” (Keari Cruise and Dine) এ।

এসি তে টিকেট করা ছিল। কেয়ারী কুরুজ এন্ড ডাইন” (Keari Cruise and Dine) জাহাজ এর টিকেট /ভাড়া টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিন ১০০০-১৬০০ টাকা

টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিন যেতে জাহাজের টিকেটের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন : 

Kearitourismbd.com , Launchbd.com

মোবাইলঃ 01811-418479, 01817-148735; 01817-048597;

গ্রীনলাইনঃ Greenlinebd.com

জাহাজের এসি কম্পার্টমেন্ট বেশ সুসজ্জিত ও পরিপাটি।

সবাই উঠে পড়লাম জাহাজে। জাহাজের এসি কম্পার্টমেন্ট বেশ সুসজ্জিত ও পরিপাটি। আছে খাবারের ব্যবস্থা, চা, কফি টিভি, কার্ড ও দাবা খেলার সরঞ্জাম। ওদের রং চা খুব ভাল তবে দাম প্রতিকাপ ৫০.০০ টাকা। টুরিষ্টদের জন্য আছে পত্রিকা। 

স্বচ্ছ কাচে ঘেরা জাহাজের ভেতর থেকে নীল সাগরের প্রকৃতি উপভোগ করা যায়।

নীল সাগরের প্রকৃতি

কিছুক্ষন পরে আমরা বেরিয়ে পড়লাম জাহাজ ও প্রকৃতি দেখার জন্য; আসলে খুব কম সময়ই আমরা জাহাজের ভিতর ছিলাম। সারাক্ষন শুধু ঘুরাঘুরি করছি আর উপভোগ করেছি নদী ও সাগরের নির্মল প্রকৃতি।

নাফ নদীর বুক চিরে আমরা ছুটে চলছি বঙ্গোপসাগর তথা সেন্ট মার্টিন এর দিকে। এই ফাকে একটি কথা না বল্লেই নয়। নাফ আসলে কিন্তু কোন নদী নয়, এটি বঙ্গোপসাগরের বর্ধিত অংশ মাত্র এবং এ কারনে এর পানি লবনাক্ত। ওপারে মায়ানমার এ পারে বাংলাদেশ।

সেলফি টাইম 🙂

হাসি আনন্দ আর সেলফি/ভিডিও উপভোগ করতে করতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সেন্ট মার্টিন এর দিকে।

এভাবে আমরা যখন সমুদ্রের বুক চিরে সেন্টমার্টিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা সমুদ্রের নীল পানি পরিষ্কার আকাশ এবং আশপাশের প্রকৃতি দেখে খুবই মুগ্ধ ছিলাম যা ভাষায় প্রকাশ করার নয় আমাদের সাথের বাচ্চারা তারা ছুটোছুটি করছিল জাহাজের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে আমরা তাদের নিরাপত্তার সাথে সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি। ওরা ভিডিও করছিল সাথে সেলফি।

সিগাল (গাঙচিল)

আর আমাদের জাহাজ কে অনুসরণ করা অসংখ্য সুন্দর সুন্দর সিগাল (গাঙচিল) আমাদের অনুসরণ করছিল এবং আমরাও তাদের সাথে দারুন মজা করছিলাম আমরা ওখানে চিপস এর প্যাকেট কিনে এবং সেখান থেকে একটা দুইটা করে সিগাল (গাঙচিল) দের দিকে ছুড়ে মারি এবং ওরা আনন্দের সাথে সেগুলি লুফে নিয়ে খাচ্ছিল আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি এই পাখিগুলো মানুষদের খুব ভালোবাসে এবং বিশ্বাস করে।

ওরা আমাদেরকে বিশ্বাস করে অনুসরণ করছিল এবং আমরা যে খাবার দিচ্ছিলাম সেগুলি তারা লুফে নিচ্ছিল। আমাদের দেওয়া খাবার গুলো নিতে তারা প্রায় আমাদের হাতের মধ্যে চলে আসছিল। মাত্র ১ ফুট দূরত্ব থেকে তারা আমাদের দেওয়া চিপস গুলো ঠোট দিয়ে লুফে নিচ্ছিল যা ছেলে বুড়ো সবাই খুব উপভোগ করছিলাম।

নীল জলরাশির বঙ্গোপসাগর, নাফ নদী এবং এলাকা উপভোগ করতে করতে কখন যে আমরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জাহাজ ঘাটে পৌঁছে গেছি বুঝতে পারেনি। যা হোক, আমরা লাগেজ-পত্র নিয়ে একে একে নেমে পড়লাম জাহাজ ঘাটে।

জাহাজ ঘাটে

জাহাজ ঘাটে যখন আমরা পৌঁছালাম দেখি আমাদের আগে আরও দুইটি একই সাইজের জাহাজ ঘাটে নোঙ্গর করছে। 

আমাদেরকে আগেই লেগে থাকা দুটি জাহাজের ভিতরের সরু রাস্তা দিয়ে পার হতে হচ্ছিল যা একটু কষ্টকর এবং বিপদজনক। সেজন্য আমি বলব এরকম ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক হয়ে চলাফেরা করতে হবে অন্যথায় যে কোনো সময় যে কোনো দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হতে পারে।

লাইট হাউজ রিসোর্ট

যা হোক, আমরা সঠিকভাবে জাহাজ থেকে নামলাম এবং জাহাজ ঘাট থেকে আমাদের আগেই বুকিং দিয়ে রাখা লাইট হাউজ রিসোর্ট খুব কাছেই ছিল তাই আমরা কোন গাড়ি ভাড়া না করে সবাই মিলে কিছুটা উত্তপ্ত বালুময় মাঠের ভেতর দিয়ে এগিয়ে গেলাম এবং মাত্র ৫-৭ মিনিট এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম আমাদের আমাদের রিসোর্টে।

দেখলাম, ওদের সুসজ্জিত একটি বিশ্রামাগার রয়েছে। তো সেখানে আমরা বেশ কয়েকজন মিলে আমাদের মহিলা এবং শিশু সদস্যদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছিলাম।

লাইট হাউজ রিসোর্ট

ওদিকে আমাদের শাহজাহান ভাই দেখতে গেলেন আমাদের জন্য প্রস্তুতকৃত রুমের অবস্থা। তো সম্পূর্ণ প্রস্তুত পেয়ে শাহজাহান ভাই আমাদের গ্রিন সিগন্যাল দিলেন এবং আমরা প্রবেশ করলাম যার যার জন্য নির্ধারিত রুমে।

আমার রুম ( দোলনচাঁপা )

আমার রুমের নাম ছিল দোলনচাঁপা, রোমান্টিক একটা নাম এবং পরিপাটি ছিল আমার খুব পছন্দ হয়েছে। পানি ও বিদ্যুতের সুন্দর ব্যবস্থা সেখানে আছে।

যা হোক আমরা আমাদের লাগেজ পত্র রুমে রাখলাম এবং লাঞ্চেল অর্ডার দিয়ে আমরা বের হলাম সেন্টমার্টিন ওয়েষ্ট বিচের দিকে।

আমরা যেহেতু পাঁচটি পরিবার ছিলাম এবং আমাদের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৭ জন তাই পরিবারের সদস্য সংখ্যা হিসাবে আমাদের জন্য রুম বুকিং দেওয়া হয়েছিল যাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি তাদের জন্য ডাবল অথবা ট্রিপল বেডের রুম দেওয়া হয়েছিল আর যাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা কম তাদের জন্য সিঙ্গেল বা ডাবল রুম বুকিং করা হয়েছিল।

আমরা দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম বাসা থেকে এবং পৌছে গেলাম সেন্টমার্টিনের ওয়েস্ট পয়েন্টে। ওখানে যেতে আমরা ভ্যান ভাড়া করলাম। ভ্যান ভাড়া ওখানে একটু বেশি বটে।পৌঁছে গেলাম সেন্টমার্টিনের ওয়েস্ট পয়েন্ট। ওখানে যাওয়ার রাস্তা তেমন একটা ভালো নয় তাই হেটে গেলেও খুব দ্রুত যাওয়া যায়। 

সেন্টমার্টিনের ওয়েস্ট বিচে

সেন্টমার্টিনের ওয়েস্ট বিচে যে যার মত দৌড়াদৌড়ি, সাঁতার কাটা, লাফালাফি, সেলফি ভিডিও ইত্যাদিতে কেটে গেল।

ওখানে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে বিচ যথেষ্ট জনাকীর্ণ ছিল তবে সেটা বিরক্তিকর নয় এবং ওখানে নিরিবিলি বসে সময় কাটানোর জন্য বীস আমব্রেলা ছিল এবং বসার জন্য ছিল ইজি বেড।

আপনি চাইলে সেগুলি ব্যবহার করে রেস্ট করতে বা বিশ্রাম নিতে পারেন আমরা পানিতে নেমে সাঁতার কেটে পুরো সময় মজা করছিলাম এবং সমুদ্রের গর্জনের সাথে সাথে বড় বড় আছড়ে পড়া ঢেউ এ নিজেদেরকে ভাসিয়ে দিচ্ছিলাম। সবই ছিল দারুণ মজার এবং আনন্দের।

যাহোক আমাদের বিচের ঘোরাঘুরি ছবি তোলা সেলফি পর্ব শেষ হলো। ঘোরাঘুরি করলাম হুমায়ূন আহমেদ খ্যাত সমুদ্র বিলাসে। এটি সমুদ্রতীরের একদমই সাথে লাগোয়া। এরপরে আমরা ফিরে আসি আমাদের রিসোর্ট। কারন পেটে সবার ক্ষুধা।

রিসোর্টে এসে ফ্রেশ হই এবং ইতিমধ্যে আমাদের জন্য অর্ডারকৃত লাঞ্চ  প্রস্তুত। সেরে ফেলি লাঞ্চ। বেশ সাধারণ খাবার খাই, সাদা ভাত মুরগির মাংস, ডাল এবং আলু ভর্তা। সত্যি বলতে কি আমাদের দীর্ঘ ভ্রমণ এবং সমুদ্রের পানিতে অবগাহন এর পরে আমরা যথেষ্ট ক্লান্ত-শ্রান্ত ছিলাম তাই আমাদের কাছে ওই সময়ে এই সাধারণ ডালভাত অমৃতের মত লাগে।

সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ রিসোর্ট বা হোটেলে অন পেমেন্ট এ খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি চাইলে আপনার ইচ্ছামত মাছ মাংস বা অন্য কোন মেনু অর্ডার করতে পারেন। তারা আপনাকে ব্যবস্থা করে দিবে। এছাড়া আপনি আপনার লাঞ্চ মেনু কে যে কোন ভাবে কাস্টমাইজ করতে পারেন অর্ডার করতে পারেন সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ অথবা সাধারণ যেকোনো বাংলা খাবার।

এরপর লাঞ্চ সেরে আমরা ফিরে যাই যার যার রুমে এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেই। আসলে বিশ্রামের সময় খুব কমই ছিল কারণ আমরা এখানে এসেছি ভ্রমণ করতে এবং সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই সেন্টমারটিন কে দেখতে। তাই আমরা বেশিক্ষণ রুমে বসে না থেকে আমরা সবাই একে একে বেরিয়ে পড়ি আমাদের রিসোর্টের খুবই সন্নিকটে সি বিচ দেখতে এবং তৎসংলগ্ন এলাকা ঘুরতে।

পড়ন্ত বিকেলে আমরা সমুদ্র তীরে হাঁটছি ঘুরছি এগুলি সবার কাছে ছিল খুবই আনন্দের এবং উপভোগ আমাদের সাথে যারা ভাবীরা ছিলেন তারাও। এগুলি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছে, মজা করেছে আমাদের সাথে বাচ্চা ছেলে মেয়েরা।

তো আগেই বলেছি লাইট হাউজ রিসোর্ট সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ দিকে নৌবাহিনী অফিস সংলগ্ন এবং এর সাথেই রয়েছে সমুদ্রের তীর।

সেজন্য এই এলাকাটি খুবই উপভোগ্য ছিল এবং পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের আলোয় আমরা নানা রকম ছবি তুলেছি, সেলফি করেছি, ভিডিও করেছি প্রত্যেকটা ইভেন্ট ছিল খুবই উপভোগ্য এবং আনন্দদায়ক। এভাবে আমাদের প্রথম দিনের সেন্টমার্টিন ট্যুর সমাপ্ত করি এবং আমাদের রিসোর্টে ফিরে যায় যাই।

তবে রিসোর্টে সবাই ফিরে গেলেও আমাদের মহিলা সদস্য এবং শিশুদের রিসোর্টে রেখে আমরা একটু সান্ধ্যকালীন ঘুরাঘুরি করতে বেরিয়ে পড়ি। চলে যাই জাহাজ ঘাট সংলগ্ন বাজার এলাকায়।সেখানে আমরা দেখি হরেক রকমের মাছ, কাঁকড়া এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাদ্য।

মাছ, কাঁকড়া এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাদ্য।

আমরা সবাই পছন্দ করলাম যে আমরা আজ উপভোগ করব মচমচে ফ্লাইং ফিস। একটি রেস্টুরেন্টে ফ্লাইং ফিশ ফ্রাই করার অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছিলাম তখন আমি দেখলাম অনেকেই কাঁকড়া ভাজি খাচ্ছে এবং তাদের খাওয়া দেখে মনে হচ্ছিল তারা এটি খুব মজা করেই খাচ্ছে। যদিও আমি কখনো কাঁকড়া ভাজি টেস্ট করি নাই।

তবে আমরা ফ্লাইং ফিস ফ্রাই করে খেলেও অন্যদের কিন্তু বাদ রাখেনি। আমাদের রিসোর্টে যে সমস্ত সদস্যরা ছিল তাদের জন্য আমার এই ফ্লাইং ফিশ ফ্রাই নিয়ে যাই এবং তারাও এটি খুব মজা করে খায়। এরপর আমাদের রাতের ইভেন্ট ছিল বারবিকিউ এবং সেটি ছিল কোরাল মাছের বারবিকিউ যা আসলে খুবই মজাদার ছিলো সবার কাছে।

আমরা যেহেতু আগের দিন রাত বারোটার গাড়িতে টেকনাফ রওনা হই, সেহেতু অনেকেরই ঘুমের ঘাটতি ছিল। এরপরে সারাদিন ঘোরাঘুরি করে আমরা সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এদিকে বারবিকিউ তৈরি হচ্ছে কিন্তু বেশ সময় নিচ্ছে তাই আমাদের শিশুরা সহ বেশ কয়েকজন ঘুমিয়ে পড়ল।

কিন্তু আমরা কয়েকজন ব্যস্ত আছি বারবিকিউ কখন রেডি হবে এবং আমরা ডিনার করবো। এরপর প্রায় রাত ১২ টায় আমাদের বারবিকিউ রেডি এবং ডাক পড়ল ডিনারের জন্য।

বেশ কয়েকজন তাদের ঘুমের ঘাটতি এবং ডিনারে দেরি হওয়াতে রেগে গিয়েছিল। অবশেষে যখন আমরা বারবিকিউ প্রস্তুত করে সবার সামনে প্রেজেন্ট করলাম তখন বারবিকিউ ছাদে সবাই বিগলিত এবং আনন্দিত এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি যে আমরা আমাদের সমস্ত সদস্যদের মাঝে আনন্দ দিতে পেরেছি।

আর একটা বিষয় না বলে পারছি না সেটি হচ্ছে আমাদের টিমে ১৭ জন সদস্য থাকলেও আমাদের মধ্যে এমন কোন শিল্পী বা গায়ক ছিল না কিন্তু তাই বলে আমরা নাছ, গান পছন্দ করি না তা কিন্তু নয়। সৌভাগ্যবশত আমাদের রিসোর্টে একটি বড় টিম এসেছে যাদেরকে আমরা পরবর্তীতে জেনেছি তারা একটি নির্দিষ্ট অফিসের চাকরিজীবী এবং তারা শিল্পী এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এসেছিল। তাদের গান আমরা খুবই উপভোগ করেছিলাম।

আরো উপভোগ করেছিলাম সমুদ্র তীরে তাদের ফানুস পোড়ানো। 

এভাবে আমরা আমাদের সেন্টমার্টিনের দুই রাত দুই দিন এক রাতের ট্যুর এর প্রথম দিন এবং প্রথম রাত শেষ করি।

ভোরবেলা উঠে আমরা কয়েকজন বেরিয়ে পড়ি পায়ে হেঁটে পুরা সেন্টমারটিন ঘুরতে এবং সকাল বেলা সূর্যের আলোয় এক অপরূপ শোভায় শোভিত হয় সেন্টমার্টিন। সেই দৃশ্য উপভোগ করতে করতে আমরা আমাদের রিসোর্ট এলাকা হতে শুরু করে পশ্চিম দিকে হয়ে পু্রো সেন্টমার্টিন ঘুরে পুনরায় আমরা আসি আমাদের লাইট হাউজ রিসোর্টে। অনেকে অবশ্য বাইসাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে থাকে ।

Travelling to Chera Deep

শুরু হলো দ্বিতীয় দিনের ভ্রমন। আজকে আমাদের গন্তব্য ছেড়া দ্বীপ যা সেন্ট মার্টিন এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং আমি বলব এটি প্রধান আকর্ষণ কারণ আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেন্ট মার্টিন এর ছেড়া দ্বীপ।

তো সেজন্য আমরা আগেই একটি সাম্পান বুকিং করে রেখেছিলাম। তারপর আমরা সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে সবাই চলে গেলাম জাহাজ ঘাটে। আমরা যেখানে নেমেছিলাম সেখানেই বিপরীত পাশে সম্পান এবং স্পিড বোট ভাড়া পাওয়া যায়। আমরা একটি বড় শাম্পান ভাড়া নেই এবং যাত্রা শুরু করি ছেড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে।

এখানে অবশ্য বলে রাখি আমাদের টিমে অন্যতম সিনিয়র সদস্য আমাদের শাহজাহান ভাই। উনার পরিবার ছেড়া দ্বীপ যাওয়া থেকে বিরত থাকেন কারণ ওনার ছোট বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাই উনি তার চিকিৎসার জন্য থেকে যান সেন্টমার্টিনে। যাহোক, আমরা সাম্পানে করে রওনা হলাম সেন্টমার্টিন হতে ছেড়া দ্বীপে।

এখানে যাওয়ার পথে আমরা দেখেছি পরিষ্কার স্বচ্ছ পানির সাগর এবং সেখানে জীবিত ও মৃত অনেক প্রবাল এবং শৈবাল। আমাদের শাম্পন নৌকাটি বেশ বড় ছিল।

তাই এটি একেবারে ভুলে যাওয়া অর্থাৎ ছেড়া দ্বীপের ফুলে যাওয়া সম্ভব ছিল না তাই সেখানে এবং সাম্পান হতে ছোট ডিঙ্গি নৌকা তে আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় ছেড়া দ্বীপের ঘাটে এটিও আরেকটি মজাদার বিষয় ছিল আমরা যখন ছেড়া দ্বীপে নামতেছি তখন দেখেছি প্রায় 5 থেকে 10 ফুট গভীরে পরিষ্কার পানি এবং সেখানকার শ্যাওলা এবং দেখা যাচ্ছিল।

অবশেষে আমরা নেমে পড়লাম ছেড়া দ্বীপে এবং ঘোরাঘুরি করতে লাগলাম। সেখানে আমরা লক্ষ্য করেছি কোন স্থায়ী দোকানপাটে নেই এবং মাইকিং করা হচ্ছিল যে এখানে যেন কোন ধরনের ময়লা আবর্জনা ফেলা না হয়, কোন সামুদ্রিক জীব বৈচিত্রের আইটেম আমরা সংগ্রহ না করি এইখানে।

একটু বলে রাখি যে আসলে সেন্টমার্টিন এবং ছেঁড়া দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্রকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য আমাদের সকলের ঐকান্তিক চেষ্টা করা উচিত কারণ এতে প্রাকৃতিক বৈচিত্র ধরে রাখতে হলে তাকে প্রাকৃতিকভাবেই সংরক্ষণ করতে হবে এখানে যদি কোন ময়লা আবর্জনা পলিথিন রাসায়নিক সামগ্রী ফেলা হয় তা মারাক্তকভাবে এই এলাকার পরিবেশ দূষণের কারণ হবে।

প্রাকৃতিক বৈচিত্র ব্যাহত হবে যা মোটেই কাম্য নয়। সুতরাং আমি ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে অনুরোধ করবো আপনারা যারা সেন্ট মার্টিন, ছেড়া দ্বীপ বা বাংলাদেশের যে কোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানে ভ্রমণের যান তাহলে সেখানকার পরিবেশ রক্ষায় আপনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। এতে করে আমরা আমাদের দেশের এই সব অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে দীর্ঘ স্থায়িত্ব দিতে পারব। 

হ্যাঁ ছেড়া দ্বীপে আমরা শুধুমাত্র দুই/একটি ডাব বিক্রেতাকে ওখানে অস্থায়ীভাবে বসে ডাব নারকেল বিক্রি করতে দেখেছি। আমরা আগেই জেনেছি ছেড়া দ্বীপের কচি ডাব এবং এর পানি খুবই সুমিষ্ট হয় তাই আমরা সবাই ছেড়া দ্বীপের ডাবের স্বাদ নিতে ভুল করিনি।

এভাবে আমরা সবাই ছেড়া দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফিরা করছিলাম উপভোগ করছিলাম নীল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এবং সাগরের সো সো শব্দ সবকিছু আমাদের কে যেন একটা ঘোরের মধ্যে নিয়ে গেছিল।

এরই মধ্যে আমরা টেলিফোন পাই যে আমাদের শাহজাহান ভাই যিনি তার ফ্যামিলি সহ সেন্টমার্টিনে থেকে গিয়েছিলেন সেই অসুস্থ বাচ্চা এখন অনেকটাই সুস্থ এবং উনি একটি স্পিডবোট নিয়ে ইতিমধ্যে ছেড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এটা শুনে আমরা সবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লাম। যাক বাবা বাচা গেল, সবাই সব কিছু উপভোগ করতে পারলাম অবশেষে।

ফাইনালি, আমরা ছেঁড়া দ্বীপ এর প্রকৃতি পরিবেশ উপভোগ শেষে আমরা আমাদের সাম্পানে এবং শাহজাহান ভাই স্পিডবোটে ফিরে আসলাম সেন্টমার্টিনের রিসোর্টে এবং যেহেতু আমাদের ফিরতি জাহাজ বিকাল ৩ টায় তাই আমরা রিসোর্টে ফিরে দ্রুত ফ্রেশ হলাম এবং লাঞ্চ সেরে সবাই যার যার মালামাল গুছিয়ে ফ্যামিলি নিয়ে এসে পড়লাম সেন্টমার্টিনের জাহাজ ঘাটে এবং যথারীতি আগে থেকেই বুকিং দেওয়া জাহাজে উঠে পড়লাম।

এভাবেই সমাপ্ত হল আমাদের দুই দিন এক রাতের আনন্দঘন সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ


– অশেষ ধন্যবাদ যারা আমার এই লেখায় চোখ বুলিয়েছেন।

Facebook Page : Travel 2 LIfe

Twitter : Travel 2 LIfe

[FinalTilesGallery id=’2′]